করোনায় বাঘৈর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের করণীয়ঃআবুল মনসুর আহমেদ

 

আসমা আক্তার, কেরানীগঞ্জ(ঢাকা) প্রতিনিধি

সারা বিশ্বের আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিও আজ সংকটাপন্ন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ যাদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে, তারা নেই প্রতিষ্ঠান। সবাই যার যার বাড়িতে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের জন্য শিক্ষক হিসেবে আমাদের করণীয় রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একজন শিক্ষক হিসেবে আমদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে ক্লাস পরিচালনা করা আর খাতা দেখায় নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে হবে। বর্তমান এই পরিস্থিতি আমাদের উচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে চিন্তা করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যাতে তারা তাদের এই সময়ের একটি বড় অংশ একাডেমিক কাজে নিয়োজিত থাকতে পারে। আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর গত ১৭ই মার্চ দেশের সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে ১লা এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরিস্থিতি উন্নতি না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে নাগাদ খোলা হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের লক্ষ লক্ষ মিনিট নষ্ট হচ্ছে।

স্কুল বন্ধ তাই বলে ঘরে বসে অলস সময়ে কী করণীয়? কী করলে নিজের সময় ভালো কাটবে, দেশের, সমাজের উপকারে লাগা যাবে? ছাত্রছাত্রীদের প্রথম কাজ যেহেতু পড়ালেখা করা, কাজেই সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশে-বিদেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অনলাইন ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে। আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি জগতে ‘শিক্ষক বাতায়ন’ রয়েছে, যেখানে আছে সব শ্রেণির সব বিষয়ের শিক্ষা উপকরণ।

করোনায় শিক্ষার্থীদের করণীয়ঃ
#প্রথম কথা, শিক্ষার্থীরা কী পড়বে? তোমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলে যা শিক্ষক তোমাকে পড়াতেন বলে মনে হয়, তাই পড়ার চেষ্টা করো। অভিভাবক সহযোগিতা করতে পারেন। ফোনে শিক্ষকের পরামর্শ নিতে পার।

দুই.

এবার আসো খেলাধুলা। ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতে হলে ২২ জন দরকার, কমপক্ষে পাড়ার খেলায় ১০-১২ জন। করোনার কারণে এই পাড়ার খেলাও বিপজ্জনক। ঘরে বসে ভাইবোন বা বাবা-মার সঙ্গে দাবা খেলতে পার অথবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছোট কোনো খেলা। এসবই হয়তো বুদ্ধির খেলা, আনন্দ দেওয়ার খেলা। কিন্তু শরীরচর্চা তো করা চাই। দড়ি লাফ হচ্ছে একা মজার শরীরচর্চা

আমি মনে করি, এই করোনাতে তোমার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে। করোনা প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে- প্রতিনিয়ত সাবান, স্যানিটাইজার বা ছাই দিয়ে হাত ধোয়া। হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ না করা। এ কথাটি তুমি তোমার পরিবারের সব সদস্যকে বলতে পার এবং প্রতিনিয়ত তা অভ্যাস করার বিষয়ে উৎসাহিত করতে পার।
করোনা ছড়ায় মানুষের মাধ্যমে। কাজেই যত কম জনসমাগমে যাওয়া যায়, ততই ভালো। নিজে কোনো জনসমাগমে যাবে না, অন্যকে এতে নিরুৎসাহিত করবে। একান্ত বাইরে যেতে হলে মাস্ক পরে যাওয়া ভালো। যত কম সময় বাইরে থাকা যায়, হাত দিয়ে যতটা সম্ভব কম জিনিস স্পর্শ করা, ফিরে এসে হাত ভালো করে ধুয়ে তারপর অন্য জিনিস স্পর্শ করবে। কাপড়ে করোনা ভাইরাস কয়েক ঘণ্টা বাঁচে। কাজেই বাইরে থেকে ফিরে পরিহিত কাপড় পাল্টিয়ে ফেলবে ও ধুয়ে দেবে।

তিন.
তোমার অভিভাবক, আত্মীয়স্বজনকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জিনিস না ক্রয়ের জন্য আহ্বান জানাতে পার। এখন দেখা যাচ্ছে, অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জিনিস কিনছেন। এমনকি ৩-৪ মাস বা বছরের বাজার। এটি কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের খাদ্যগুদামে প্রচুর খাবার আছে, কৃষকের ঘর এবং ক্ষেতে প্রচুর খাদ্যশস্য, সবজি আছে, খাবারের কোনো অভাব হবে না। এভাবে অবিবেচক কিছু ব্যক্তি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জিনিস কেনার ফলে অনেক জিনিসের দাম দোকানিরা বাড়িয়ে দিয়েছেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার অবস্থা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা এ বিষয়ে অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনকে সচেতন করতে পারে।

পরিশেষে বলতে চাই
অপ্রয়োজনে
রাস্তায় বের হওয়ার যাবে না। নিজের স্বাস্থ্য দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাবে। কারণ অসুস্থ হলে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটবে।মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে দ্রুত আমরা এই মহা বিপদ থেকে মুক্তি পাবো ইনশাল্লাহ।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ থাকবে, ভালো থাকবে এই কামনাই করছি