মো: আবদুল কাদের,লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে বাস যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকার সড়ক পথের দূরত্ব ১৭৩ কি.মি.। বিআরটিএ এর নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী দূরপাল্লার নন এসি বাসের কি.মি. প্রতি ভাড়া ১ টাকা ৪২ পয়সা করে ১৭৩ কি.মি. এর ভাড়া আসে ২৪৬ টাকা।
আর বিদ্যমান নন এসি বাসগুলি নেয় ৪০০ টাকা করে। অর্থাৎ বাস মালিকরা টিকিট প্রতি ১৫৪ টাকা (৬৩%) বেশি নিচ্ছেন বলে আনোয়ার হোসেন নামে ঢাকা মুখী একজন যাত্রী যুক্তি খন্ডন করেন। দীর্ঘদিন থেকেই এ রুটে বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য চলে আসছে। এখানে জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রীরা ।
এ রুটে বর্তমানে ইকোনো, ঢাকা এক্সপ্রেস, রয়েল, মিয়ামী, জোনাকী, জননীসহ আরও কয়েকটি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। সরজমিনে রয়েল, ইকোনা, শাহী সহ কয়েকটি বাসযাত্রী উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বাধ্য হয়ে যেতে হয়। সরকারের কোন অথরিটি আছে বলে তো মনে হয় না!
নতুবা দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনের ভাড়া নিয়ে এরকম নৈরাজ্য চলে কি করে? এ ক্ষেত্রে বিআরটিএ নির্ধারীত ভাড়া বাস্তবায়নের আহবান জানান তারা। আরেক সিটের ভাড়া আমরা কেন দিবো? আমাদের তো বেতন বাড়ে নি। ৬০% ভাড়া বৃদ্ধিতে বিআরটিএ এর নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী দূরপাল্লার নন এসি বাসের ২৪৬+(২৪৬*৬০%)=৩৯৩ টাকা। মানে বাস মালিকরা বর্তমান ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করলেও অতিরিক্ত ৩% ভাড়া বেশি পায়।
কিন্তু তারা নিচ্ছে ৪০০+(৪০০*৬০%)= ৬৪০ টাকা। মানে বিআরটিএ এর নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী দূরপাল্লার নন এসি বাসের বর্তমান ভাড়া হয় ২৪৬ টাকা। সেখানে একজন যাত্রীকে দিতে হবে ৬৪০ টাকা যা ৩৯৪ টাকা বেশি, বর্তমান নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ১৬১% বেশি। আর ৬০% বৃদ্ধিতে ৩৯৩ টাকার ভাড়া ৬৪০ টাকা দিলে একজন যাত্রীকে ২৪৭ টাকা বেশি দিতে হবে, যা বর্তমান বিআরটিএ এর নির্ধারিত ভাড়া (২৪৬)র ১০০% বেশি অর্থাৎ দ্বিগুণ।
কয়েকটি কাউন্টার এর ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই ভাড়াটি মূলত তাদেরকে মালিকপক্ষ নির্ধারন করে দিয়েছেন। জোনাকী তার সাথে সরকার ঘোষিত ৬০% ভাড়া বেশি যোগ করলে ৬৪০ টাকা দাঁড়ায়। এর চেয়ে বেশি নিচ্ছেননা বলে দাবী তাদের। বিআরটিএ নয় মালিকপক্ষের বেঁধে দেয়া ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে বলে জানান তারা। জোনাকি সার্ভিস (প্রাঃ) পরিবহনের কর্নধর ইব্রাহিম মাহাবুব বলেন, যাত্রীদের অভিযোগ সত্য না।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করেছি। আমার গাড়ি ঢাকার ভাড়া ৪৬০ টাকা চিটাগং এর ভাড়া ৫৫০ টাকা কিন্তুু এমন ভাড়া ও যাত্রী সংকট চললে আগামী সপ্তাহে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।
২০ টিকেটও হয়না ঢাকা ও চট্রগ্রাম থেকে আসা গাড়ি গুলোর। এতে ড্রাইভার, স্টাফ, শ্রমিকদের ভুর্তকী দিয়ে চালাতে হয়। সরকারি সহযোগিতা না পেলে তেল ও গ্যাসের দাম না কমালে এই সেক্টরে পরিবহন বন্ধ করে অনেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে।