কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ হত্যার জেরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় কাজ করবে ১০ হাজার ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য।এদের মধ্যে ৪১০০ জন সিটিজেন সোলজার ও এয়ারম্যান। -ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন
২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে গিয়েছিল পুলিশ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েড।
এই কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মিনিয়াপোলিস উত্তাল হয়ে ওঠে। মঙ্গল ও বুধবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে কয়েকশ বিক্ষোভকারী বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। মিনেসোটা, নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। উত্তেজিত প্রতিবাদকারীরা বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসের একটি থানাও জ্বালিয়ে দিয়েছে। মিনেসোটার গভর্নর অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় এ শহরটিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন।
শুক্রবার থেকে তাদের ৭০০ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। মিনিয়াপোলিস ও মিনেসোটার অন্য শহরগুলোর নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবেন সেনা সদস্যরা। ন্যাশনাল গার্ডস এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, প্রয়োজনে বল প্রয়োগের অধিকার আছে তাদের। এমনকি ম্যাজেস্ট্রিসি পাওয়ারও দেয়া হতে পারে তাদের।
১৯৯৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে আর কখনও সশস্ত্র ন্যাশনাল গার্ডকে সক্রিয় করার ঘটনা ঘটেনি। সেবছর টেক্সাসের একটি উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানস একটি ব্রা ঞ্চ দখল করে রাখে। তাদের কাছে ভারী অস্ত্র ছিলো। যুক্তরাষ্ট্র দখলের হুমকি দেয়া সংস্থাটিকে নিউট্রালাইজড করতে ৫১ দিনের এক ম্যারাথন অভিযান চলে। এতে ব্যবহার করা হয়েছিলো ন্যাশনাল গার্ডস । এই অভিযানে ৪ ন্যাশনাল গার্ডস সদস্য মারা যান। আর ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানসের ৮২ সদস্য নিহত হয় ।
Matribumi Barta Online Newspaper